দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ব্রিটেনের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরোধিতাও করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বিবিসিকে দেওয়া প্রথম বড় সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বার্নহ্যাম বলেন, ট্রাম্পের সঙ্গে তার প্রথম বৈঠক ইতিবাচক ছিল এবং তিনি তাকে ‘খুবই আন্তরিক’ বলে মনে করেছেন।
তবে ট্রাম্পকে বিশ্বাস করেন কি না—এমন প্রশ্ন দুবার করা হলেও তিনি সরাসরি উত্তর দেননি। এর জবাবে তিনি বলেন, “বিশ্ব তো প্রতিনিয়ত বদলাচ্ছে। পরিস্থিতি যেভাবে এগোবে, সেভাবেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”
সোমবার পূর্ণাঙ্গভাবে প্রচারিত হওয়ার কথা থাকা সাক্ষাৎকারে বার্নহ্যাম বলেন, “আমি কখনোই বলতে পারি না যে ট্রাম্পের সঙ্গে আমার ভিন্নমত হবে না। ব্রিটেনের জন্য যা সঠিক, প্রয়োজনে সেই অবস্থানই তুলে ধরব।”
তিনি বলেন, “আমার সবচেয়ে বড় শক্তি সাধারণ মানুষের কাছাকাছি থাকা। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরও সেটি বদলাবে না।”
প্রয়োজনে ট্রাম্পের সমালোচনা করবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “অবশ্যই। সবার আগে নিজের দেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করতে হবে। এই দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে হলে সেটাই করতে হবে।”
ইরান ইস্যুতেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন বার্নহ্যাম। তিনি বলেন, ট্রাম্পের নেওয়া পদক্ষেপ নিয়ে তার উদ্বেগ ছিল এবং প্রয়োজন হলে নিজের অবস্থান স্পষ্টভাবে জানাতে তিনি পিছপা হবেন না।
বার্নহ্যামের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিরোধী দলের ছায়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস ফিলপ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ব্রিটেনের দীর্ঘদিনের মিত্র। তবে তারা কোনো বিষয়ে ভুল করলে সেটি সৎভাবে বলা উচিত।
এদিকে, প্রতিরক্ষা খাতে জিডিপির ৩ শতাংশ ব্যয়ের বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা দিতে রাজি হননি বার্নহ্যাম। এর আগে বর্তমান অর্থমন্ত্রী জন হিলি পূর্ববর্তী সরকার থেকে পদত্যাগ করে বলেছিলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা ব্যয় জিডিপির ৩ শতাংশে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি না থাকলে দেশের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে।
এ প্রসঙ্গে বার্নহ্যাম বলেন, প্রতিরক্ষা ব্যয়ের গুরুত্ব সম্পর্কে অর্থমন্ত্রীর অবস্থান জেনেই তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “এ মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। বছরের শেষ দিকে বাজেট ঘোষণার আগে আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি।”
জিডিপির ৩ শতাংশ প্রতিরক্ষা ব্যয়ের বিষয়ে আবারও প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “সেটি কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তা আমাদের নির্ধারণ করতে হবে।”
সাক্ষাৎকারে ২০২৯ সালের আগে আগাম নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনাও নাকচ করে দেন বার্নহ্যাম। তিনি বলেন, “আমি এটি নাকচ করছি। আমার মনে হয় না জনগণ এখন আগাম নির্বাচন চায়।”
তার ভাষায়, সরকারের মূল লক্ষ্য হলো “দেশকে আবার সঠিক অবস্থানে ফিরিয়ে আনা।”
অন্যদিকে, কনজারভেটিভ পার্টির নেতা ক্রিস ফিলপ বলেন, নির্বাচন যখনই হোক, তার দল প্রস্তুত। তিনি দাবি করেন, জনমত জরিপে কনজারভেটিভরা আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অবস্থানে ফিরে এসেছে।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/